রোজনামচা ২

বিশ্বাস করুন একেবারেই কাজ বলে কিছু নেই। ছাদে উঠে বিকেলবেলায় একটা ভেতর থেকে একটা খুশি খুশি থাকার চেষ্টা করছিলাম। মনে মনে একটা গুনগুন করে গাইছিলাম ‘বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেলবেলা’। পাশের ফ্ল্যাটটার তিন তলায় এক নতুন ভাড়াটে দম্পতি এসেছে তাদের তরুণী কন্যা সমেত। বিকেলের দিকে মাঝে সাঝে দেখেছি তাকে বারান্দায় ফোনটা হাতে নিয়ে এসে দাড়াতে – চোখাচুখি হলেই একটা তাচছিল্য ভরা looks দিয়ে আবার ভেতরে চলে যা্য় – যেন উনি মমতা আর আমি সূর্যকান্ত মিশ্র। সে যাইহোক আজকে তাই সই। একটা pseudo প্রেম প্রেম ভাব আজকে হাওয়ায় – ফুরফুরে বিকেলবেলা।

কিন্তু man proposes god disposes। প্রথমেই ছাদে উঠে মেজাজ তা খিঁচরে গেলো দেখে যে তিন তলার বারান্দার দড়িতে ঝুলছে আজ একটা চল্লিশ কোমরের ফ্যাকাশে খয়েরি রঙের জাঙিয়া(পুরুষ)। civic sense বলে যে একটা বস্তু হয় বাঙ্গালী কোনকালেই সেটা শিখে উঠতে পারলো না – বাড়ির কর্তা বা গিন্নী যিনিই কাজটা করে থাকুক তার অন্তত এইটুকু বোঝা উছিত যে ওরকম একটা দর্শনীয় বারান্দায় ও জিনিস শোভা পায় না। দেখলেই বোঝা যাচ্ছে জাঙ্গিয়ার original colour টি মেরুন কিংবা লাল ছিল – দীর্ঘদিন বিভিন্ন যুদ্ধে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে আজ তার দেহ রাখার সময় এসে গেছে( rather সময় পেরিয়ে গেছে, এখন বেঁচে থাকা টা ওই ventilator এর সাহায্য নিয়ে বেঁচে থাকার সমান)। দেহদান করে গেলে ন্যাকরা রুপে পরিণত হবে। বুঝতে পারলাম ললনার ওই তাচছিল্য ভরা চাহনির উৎস – ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা সমস্ত frustration বারান্দায় এসে manifested হয় ওই চাহনি তে। হাল আমি সহজে ছারিনি – ভাবছিলাম ওই ঝোলানো জাঙ্গিয়া আর মোজার মধ্যে দিয়েই আসবে বেরিয়ে সে আজকেও। কিন্ত না সেরম কিছু হল না – উল্টে কোথা থেকে সেই অসহ্য প্যাচপ্যাচে গরম তা ফিরে এল। পিঠের ঘামাচি গুলো আবার নড়েচড়ে বসল – ফুরফুরে ness তুরী টে উধাও।

ভাবনাচিন্তারও হঠাৎ করে একটা যেন প্রসার ঘটল। প্রেম, গান, চন্দ্রবিন্দু, বিকেলবেলা সবই মনে হতে লাগলো ‘তুচচছোঁ’। আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি – শুধুই কি বিকেলবেলা ছাদে এসে দাঁড়ানো? দেশে আজকে এতো খুনোখুনি কেন- মানব সমাজ কোন পথে অগ্রসারিত হয়েছে? Bermuda Triangle এর রহস্য কি কোনদিন সমাধান হবে না? মানুষ আর সাধারণ মানুষে তফাত কি – সাধারণ মানুষ কাকে বলে?

সাধারণ মানুষ সেই, পাটিগণিতের problem sum দেখলে যার হাত পা সেঁধিয়ে যায়, আবার রবিন্দ্রানাথের সাধুভাষার প্রবন্ধ এক paragraph পড়েই যে ‘বুঝেছি’ বলে দিব্যি মাথা নেরে দেয়। যে না মাথার ওপর বিস্তৃত galaxy নিয়ে উৎসাহী (মোবাইল নয়), না পায়ের নিচের tectonic প্লেটের নড়াচড়া নিয়ে উৎসুক। যে শুধু তাই করতে শিখেছে যা অন্য সবাই করে আর ক্যামেরার সামনে ক্যালানে হাসি হেসে pose দেয়।

সন্ধ্যে নামছে। নাহ বিকেল টা মোটামুটি কাটিয়ে তো দিলাম কোনরকম accessory(পরুন মুখপুস্তিকা{facebook}) ছাড়া। আজকের বাজারে কম বড় achievement তো না এটা। এরপর ফাটিয়ে একটা চান করে মুড়ি চা নিয়ে বসে সন্ধ্যেটাও কেটে যাবে। হ্যাঁ আপাত দৃষ্টিতে পুরো ব্যাপারটাই খুব ম্যান্দামারা আর ‘সাধারণ’ । কিন্ত কোথাও একটা ‘awe’(অ) সাধারনত্ত কিন্ত সাধারণ ব্যাপারগুলোর মধ্যেও থেকেই যায়।

দ্রষ্টব্য ঃ- philosophy খুজবেন না, just পড়ুন।

Advertisements

2 thoughts on “রোজনামচা ২

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s