সুখের বাসা

পর্ব- এক

এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম হয়েছিল একটি মেয়ের নাম, দীপা..
ছোটোবেলা থেকে মামাবাড়ি তে বড়ো হয়ে উঠেছে দীপা, পড়াশোনাও করেছে কিছুটা. কিন্তু মামির ভয়ে খুব বেশি স্বাধীনতা ছিলোনা তার… একটু একটু করে বড়ো হতে লাগলো সে বাড়ির লোক তার বিয়ের ব্যবস্থা করলে তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, সে যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রমেশ এর কাছে.. “গল্পের সূত্রে বলে রাখি রমেশ তার ছোটোবেলার খেলার সাথী এবং জাতিতে তাদের থেকে নীচুতে..” তা জেনেও দীপা রমেশকে ভালোবাসে.. দীপা তার বাড়িতে জানায় তার মনের কথা কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবেই কেউ মানে না তাদের সম্পর্ক..সে ঠিক করে রমেশ এর সাথে সে ঘর বাঁধবে, পালিয়ে যায় দীপা..

পর্ব- দুই

স্বপ্ন ছিলো সুখের বাসা বাঁধবে ওরা দীপা আর রমেশ, দেখতে দেখতে বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে.. রমেশ একটা ভালো চাকরী করছে সুখেই কাটছে তাদের জীবন..এর মধ্যে তাদের জীবনে এক নতুন সদস্য এসেছে, তাদের এক মাত্র সন্তান অনিরুদ্ধ..অনি ছোটো বেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ক্লাসে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয়নি কখনো.. দীপার খুব গর্ব তার ছেলেকে নিয়ে.. ছেলেও মাকে চোখে হারায়..দীপার সুখের সংসার হয় একটু বড়ো কারণ রমেশ একটু একটু করে টাকা জমিয়ে ছোট্ট এক সুখের নীড় বানিয়েছে..দেখতে দেখতে অনি বড়ো হয়ে গেছে এখন সে একটা নামী কোম্পানির সি. ই. ও. মোটা টাকা মাইনে তার..দীপা এখন চায় ছেলের বিয়ে দিয়ে তাকে সুখী দেখতে..খুব ধুমধাম করে বিয়ে দেয় তারা তাদের এক মাত্র ছেলের..দীপার সুখের মাত্রাটা হয়তো বেড়েছিলো আরো একটু…

পর্ব- তিন

অনির বিয়ের 5 বছর কেটে গেছে এর মধ্যে দীপার জীবনে চরম এক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে তার ভালোবাসার মানুষটা আজ আর তার পাশে নেই..তবু নিজেকে শক্ত রেখেছে সে ছেলে আর বাবাই এর মুখ চেয়ে..” ও ভুলে গেছিলাম বলতে, অনির ছেলে হয়েছে তার এখন 4বছর বয়স, তার নাম বাবাই..” খুব দুরন্ত সে ঠাকুমা একা হাতে পারেনা তাকে সামলাতে..বাবাইও খুব ঠাকুমা নেওটা অনেকটা অনির মতোই.. দেখতে দেখতে দীপা বৃদ্ধা হচ্ছে সে আগের মতো শক্ত নেই..এখন রোজই রমার সাথে অনির অশান্তি হয়..সে চায় দীপাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে সে আর পারছে না একা হাতে সব সামলাতে..কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে অনি তা করেনি..তবে অনির ভালোবাসার মাত্রাটা বেড়েছে অনেকটা..যে হাত একদিন দীপার পা ছুঁত আজ তা গায়ে উঠেছে..দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করেছে সে..এখন দীপার খুব অসুখ বিছানা নিয়েছে সে তাও অনি ফিরে তাকায়নি মার দিকে যে মা একদিন নিজে না খেয়ে ছেলেকে খাইয়েছে সেই মাকে আজ ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে সে….দীপার এতো সুখ দেখতে পারেনি তার প্রকৃত ভালোবাসার মানুষটি..আজ দীপা রমেশ এর কাছে..এক অন্য জগতে সুখের বাসা বেধেছে নতুন করে দুটিতে মিলে…….

অনুশ্রী কর

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s