হাত সাফাই

খসখস ঝুড়ঝুড় খসখস…….

আচমকা এক আওয়াজে ঘুমটা একটু পাতলা হয়ে উঠলো আমার, সাথেই বড়ো ঘরের দেওয়াল ঘড়িটা ঢং ঢং করে ৪টে আওয়াজ করে উঠলো। এপাশ ওপাশ করেও ঘুমটা আসছিলোনা কিছুতে। হঠাৎ এক আচমকা আওয়াজ কানে এলো খসখস খসখস বেশ কিছুটা সময় ধরেই আওয়াজটা কানে আসছিল। শীতের রাত ভোর হতে এখনো ১ ঘন্টা, এখন এই আওয়াজ টা কিসের সেটা ভাবতে ভাবতে বেশ ভয় লাগছিলো মনে।

এই শীতের রাতেই তো চোরছেচড় দের উপদ্রব হয়, বাড়িতে কোনো চোর ঢুকলো নাতো! আগেই এই খেয়াল টা এলো মাথায়। ক্রমাগত আওয়াজটা খুব কাছে আসতে লাগলো, আর বুকের ভেতরটা ততো দুরুদুরু করে উঠলো। বাড়িতে ছেলে বলতে এখন বাবা, দাদা বৌদি কেউ নেই হঠাৎ একি উপদ্রব শুরু হলো।

বাবা মা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোচ্ছে, কদিন খাটাখাটনির পর তারা খুব ক্লান্ত। মনে মনে ভাবলাম একবার ডাকি ওদের যদি কোনো চোর বাড়িতে আসে আমি কি পারবো ওদের সাথে যুঝতে? কতোটুকুই বা ক্ষমতা আমার, কিন্তু মায়া হলো তাই খুব সন্তর্পণে ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে নামলাম আলো না জ্বালিয়েই, খুব আস্তে করে দরজাটা খুলে বাইরে এলাম। চারিদিকে ঘন অন্ধকার রাস্তার আলোগুলো আজ জ্বলছেনা। চারিদিক নিস্তব্ধ, যে আওয়াজটা আসছিল সেটা হঠাৎ করে মিলিয়ে গেল আপনা থেকেই, মনে হলো যেন কেউ বুঝতে পেরেছে আমি সজাগ হয়ে গেছি। বড়ো ঘরের ঘড়িটায় ঢং করে ৪.৩০টে বাজার জানান দিলো। আর তার সাথেই ভেসে এলো “আল্লা হুঁ আকবর” এর সুর।

আবার গিয়ে শুয়ে পড়লাম বাবা মার পাশে। সকাল এর আলো ফুটতেই আমি গোটা বাড়িটা তন্নতন্ন করে দেখলাম এঘর ওঘর গোটা বাড়ি, কই না তো কিছু তো missing নেই তবে? তবে ওটা কিসের আওয়াজ ছিলো! সারাটাদিন মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো ওই অজানা আওয়াজটা। দিন পেরিয়ে রাত হয়ে গেল আবার খেয়ে ঘুমানোর পালা। ততক্ষণে ভোররাতের ঘটনাটা মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে।

খসখস ঝুরঝুর খসখস……..
ওই, ওই আবার সেই শব্দ বড়ো ঘরের ঘড়িটা কাটায় কাটায় ৪টের ঘন্টা দিলো।
নাহ…. আজ আর ভয় পেলে চলবে না, আজ আমাকে জানতেই হবে কিসের আওয়াজ এটা, কম্বলটা খুলে আবার খুব সন্তর্পণে বেরিয়ে পড়লাম ঘর থেকে এখনো সেই আওয়াজ, আজও রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট এর আলো গুলো বন্ধ। তবু আমাকে জানতেই হবে কিসের আওয়াজ এটা। তাই আজ ফোনটা নিয়েই বেরিয়েছি। সেই খসখস আওয়াজটা এবার খুব কাছে এসে গেছে। ফোন এর টর্চটা জ্বালিয়ে বারান্দায় বেরোলাম কিন্তু কই! কেউ তো নেই এখানে তবে এই আওয়াজটা কিসের কোথা থেকে আসছে কে আছে!

রাস্তার দিকে টর্চ-এর আলোটা ফেলতেই চোখে পড়লো রামু কাকু রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে এগিয়ে বাড়ির পাশের গলিটার দিকে চলে গেল আর তার সঙ্গে বড়ো ঘরের ঘড়িটায় ঢং করে ৪.৩০টে বেজে উঠলো, আর তার সাথে আজান-এর সুর ভেসে এলো দূরের মসজিদটা থেকে।।

অনুশ্রী কর

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s